জানেন কি ডার্ক চকোলেট ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে

উত্তরাপথঃ হার্ভার্ডের টি.এইচ. চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ চকলেট প্রেমীদের মন ভাল করার মত খবর প্রকাশ করেছেন।তাদের মতে ডার্ক চকোলেট টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২১% কমাতে সাহায্য করতে পারে,তবে এই উপকারিতা দুধ চকোলেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

প্রধান গবেষক বিঙ্কাই লিউ (Binkai Liu) একজন ডক্টরাল ছাত্র, ব্যাখ্যা করেন, “আমাদের গবেষণার ফলাফলগুলি দেখায় যে সমস্ত চকোলেট এক নয় ৷ তবে চকোলেট প্রেমীদের জন্য, ডার্ক চকলেট বেছে নেওয়া আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতির একটি সহজ উপায় হতে পারে।”৪ ডিসেম্বর The BMJ-এ প্রকাশিত এই গবেষণার লক্ষ্য ছিল চকোলেট এবং ডায়াবেটিসের মধ্যে বিভ্রান্তিকর সম্পর্ক স্পষ্ট করা। এর আগের অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে গবেষকরা কিন্তু ডার্ক চকলেট এবং দুধের চকোলেটের মধ্যে পার্থক্য করেনি।

নতুন এই গবেষণায় গবেষকরা নার্সেস হেলথ স্টাডিজ এবং হেলথ প্রফেশনালস ফলো-আপ স্টাডিতে প্রায় ১৯২,০০০ প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে ৩৯ বছরের বেশি ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন। তারা অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভাস, ডায়াবেটিসের অবস্থা এবং ওজন দেখেছিল। গবেষণার শেষে, প্রায় ১৯,০০০ অংশগ্রহণকারীদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস তৈরি হয়েছিল। যারা তাদের চকলেট খাওয়ার কথা বলেছেন, তাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রায় ৫,০০০ কেস উল্লেখ করা হয়েছে

ডার্ক চকোলেটের উপকারিতা

গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ আউন্স চকলেট উপভোগ করেছেন তাদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ১০% কম ছিল। ডার্ক চকোলেটের জন্য, প্রভাবটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল: যারা সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি করে ডার্ক চকলেট খেয়েছেন তাদের ঝুঁকি ২১% কম ছিল। তদুপরি, প্রতি সপ্তাহে খাওয়া প্রতিটি ডার্ক চকলেটের  জন্য, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩% হ্রাস পেয়েছিল। অন্যদিকে, দুধের চকোলেট খাওয়া কোনো স্বাস্থ্য উপকারিতা গবেষণায় দেখায়নি। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ওজন বৃদ্ধির সাথে যুক্ত ছিল টাইপ ২ ডায়াবেটিস।

গবেষণায় জড়িত আরেক গবেষক কিউ সান ডার্ক এবং মিল্ক চকলেটের মধ্যে আশ্চর্যজনক পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন । “যদিও উভয় ধরণের চকোলেটে একই রকম ক্যালোরি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, তবে ডার্ক চকোলেটের সমৃদ্ধ পলিফেনলগুলি ওজন এবং ডায়াবেটিসের উপর চিনি এবং চর্বির নেতিবাচক প্রভাবকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে,” সান বলেছিলেন।

তবে ফলাফলগুলি আশাব্যঞ্জক হলেও, গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় গড়ের চেয়ে কম ঘন ঘন চকোলেট গ্রহণ করেছেন। সুতরাং, যারা উচ্চ পরিমাণে চকোলেট খান তাদের ক্ষেত্রে ফলাফলগুলি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।তবে আপনি যদি একজন চকোলেট প্রেমী হন, তাহলে ডার্ক চকোলেট গ্রহণ উন্নত স্বাস্থ্যের জন্য একটি সুস্বাদু পছন্দ হতে পারে ।

সূত্রঃ Chocolate intake and risk of type 2 diabetes: prospective cohort studies” by Binkai Liu, Geng Zong, Lu Zhu, Yang Hu, JoAnn E Manson, Molin Wang, Eric B Rimm, Frank B Hu and Qi Sun, 4 December 2024, BMJ.
DOI: 10.1136/bmj-2023-078386

খবরটি শেয়ার করুণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন


ফ্লিম রিভিউ -ওপেনহাইমার

উত্তরাপথ: বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান দ্বারা পরিচালিত”ওপেনহাইমার” একটি মাস্টারপিস মুভি। ছবিতে জে. রবার্ট ওপেনহেইমার, এক নামকরা পদার্থবিজ্ঞানী, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পারমাণবিক বোমার বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।এই সিনেমায় ওপেনহাইমার এর জটিল জীবনকে বর্ণনা করা হয়েছে। সেই হিসেবে 'ওপেনহাইমার'কে বায়োপিক বলা যেতে পারে।  কারণ এটি একজন মানুষের গল্প। এই ছবির গল্প তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত।ছবির শুরুতে পারমাণবিক বোমা তৈরির আবেগের কথা বলা হয়েছে।  যেখানে নায়ক কিছু না ভেবে নিবেদিতপ্রাণভাবে এমন একটি অস্ত্র তৈরিতে নিয়োজিত থাকে যা বিশ্বকে ধ্বংস করতে পারে।  অস্ত্র তৈরি হওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে নায়ক তার কাজের ফলাফল দেখে অপরাধবোধে পূর্ণ হয়।  এবং তৃতীয় পর্যায়টি হল রাজনীতি  যা ওপেনহাইমারকে মোকাবেলা করতে হয়েছে।  পুরো সিনেমাটি রঙিন হলেও রাজনৈতিক অংশ সাদা-কালো রাখা হয়েছে।  এই তিনটি সময়কালে যা কিছু ঘটছে, তা সবই একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। .....বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্বকাপ ২০২৩: পাকিস্তানকে হারিয়ে Afghanistan এ ঈদের মতো পরিস্থিতি

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৩-এর ২২ তম ম্যাচে আফগানিস্তান পাকিস্তানকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে আফগানিস্তান। এই প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে হারাল আফগানিস্তান আর এই পাকিস্তানকে হারিয়ে আফগানিস্থানে(Afghanistan)এখন ঈদের মতো পরিস্থিতি।এক আফগানিস্থানি সমর্থকের মতে এটি ছিল আমাদের ইতিহাসের একটি বিরল মুহূর্ত যখন পুরো জাতি খুশি ছিল এবং নিজেদের মত করে তারা তাদের এই খুশী উদযাপন করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে এক সমর্থকের মতে, সেদিন উদযাপন ছিল, পার্টি ছিল। এটি ছিল আমাদের ইতিহাসের একটি বিরল মুহূর্ত যখন পুরো জাতি খুশি ছিল এছাড়াও, এটি ছিল ২০২৩ বিশ্বকাপের তৃতীয় বড় আপসেট । টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাবর আজমের দল। প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান দল ২৮২ রান করে। জবাবে আফগানিস্তান দল ২৮৩ রান তাড়া করে ৪৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য অর্জন করে। এই ম্যাচে হারের পর বেশ ক্ষুব্ধ দেখাচ্ছিল অধিনায়ক বাবর আজমকে। ম্যাচ-পরবর্তী উপস্থাপনার সময়, তিনি দলের ত্রুটিগুলি তালিকাভুক্ত করেছিলেন এবং পরাজয়ের জন্য নিজেদের দায়ী করেছিলেন। .....বিস্তারিত পড়ুন

Vijay Stambh : চিতোরগড় দুর্গে বিজয় স্তম্ভ হিন্দু – মুসলিম সহাবস্থানের প্রতীক

উত্তরাপথঃ খ্রিস্টীয় ৭ম শতাব্দীতে মৌর্য রাজবংশ কর্তৃক স্থাপিত চিতোরগড় দুর্গ সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে। এই দুর্গ তার বিশাল কাঠামো, রাজপ্রাসাদ, একাধিক  সুদৃশ্য মন্দির সহ সুন্দর জলাশয়ের জন্য বিখ্যাত।৭০০-একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, এই দুর্গটিতে প্রায় ৬৫টি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন রয়েছে যা রাজপুত এবং ইসলামিক স্থাপত্য শৈলীর সূক্ষ্মতার প্রমান দেয়। বিজয় স্তম্ভ (Vijay Stambh)) হল এই দুর্গে অবস্থিত,সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর কাঠামো।এই আশ্চর্য-অনুপ্রেরণামূলক স্তম্ভটি কেবল তার উচ্চতার জন্য বিখ্যাত নয়,এটি রাজপুতদের অদম্য সাহস এবং অধ্যবসায়ের গল্পও বলে যা চিতোরগড় দুর্গেরই সমার্থক হয়ে উঠেছে।বিজয় স্তম্ভ (Vijay Stambh), নাম থেকে বোঝা যায়, বিজয়ের প্রতীক।  প্রাচীনকালে যে কোনো যুদ্ধ অভিযানের সাফল্যের পর সেই বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে রাজারা মন্দির, স্তূপ, স্মৃতিস্তম্ভ ও স্তম্ভ নির্মাণ করতেন।  ৯ তলা এই বিজয় স্তম্ভটি ১৯৪০ থেকে ১৪৪৮ সালের মধ্যে মহারানা কুম্ভ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। .....বিস্তারিত পড়ুন

World Children's Day: সত্যিই কি ‘বিশ্ব শিশু দিবস´পালনের কোনও যৌক্তিকতা আছে ?

প্রীতি গুপ্তাঃ হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটি দিন তারপর ১৪ নভেম্বর আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বজুড়ে  পালন করা হবে ‘বিশ্ব শিশু দিবস´(World Children's Day)।এই দিনটি শিশুদের মঙ্গলের জন্য, তাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুকূল বিশ্ব তৈরি করার প্রচেষ্টার একটি দিন।কিন্তু প্রশ্ন,সত্যি কি হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে সারা বিশ্ব জুড়ে শিশু দিবস পালন করার কোনও যৌক্তিকতা আছে? আদৌ কি এর কোনও লাভ আমরা আমাদের প্রান্তিক স্তরের শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি ? সম্প্রতি কাজের প্রয়োজনে রাজস্থানের উদয়পুর শহরে আসা। আমরা সবাই জানি উদয়পুর বিখ্যাত তার হ্রদের কারণে । এখানকার স্থানীয় থেকে পর্যটক সকলেই এই সুন্দর হ্রদগুলির আকর্ষণে বারবার ছুঁটে যায়। ‘ফতে সাহেব লেক’ রাজস্থানের উদয়পুরের এক বিখ্যাত পর্যটক স্থল।এখানে বহু মানুষ সকাল- বিকেল এই লেকের চার ধারে হাঁটাহাঁটি করতে বেরিয়ে পড়ে। সেভাবেই দুই দিন আগে বিকেলে হঠাৎ করে বেরিয়ে পড়লাম ‘ফতে সাহেব লেকের ধারে হাঁটার উদ্দেশ্য নিয়ে। হাঁটার মাঝখানে হঠাৎ করে একটি বাচ্চাছেলে আওয়াজ করে ডাকছে ,বললাম কিছু বলবি? সে বলল একটু দাঁড়াতে। ও ছুটে গিয়ে হাতে করে কয়েকটি বেলুন নিয়ে এসে হাজির । সে বারবার বেলুন কেনার অনুরোধ জানাতে লাগল। হাতে অন্য কাজের চাপ নেই অনেকটা অবসর সময় তাই আমি অনেকটা সাংবাদিক সুলভ মন নিয়ে বললাম ঠিক আছে আমি তোর বেলুন নেব ,কিন্তু তার আগে আমি  তোকে যা বলব তার তার ঠিক ঠিক উত্তর দিতে হবে। সে খুশী খুশী রাজি হয়ে গেল । .....বিস্তারিত পড়ুন

Scroll to Top