বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা হীনতায় কি যুদ্ধব্যয় বৃদ্ধির কারণ

উত্তরাপথ

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে গোটা বিশ্বের প্রতিরক্ষা খাতের খরচ দাঁড়িয়েছে ২.২৪ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২.৫লাখ কোটি টাকা । সবচেয়ে আশ্চর্যর কথা প্রতিরক্ষা খাতে এই খরচ বেড়েই চলেছে । স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্স ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই বা সিপ্রি) প্রকাশিত বার্ষিক সামরিক খরচ বিষয়ক রিপোর্টে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে এই খরচ বাড়ার নেপথ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ান আগ্রাসন অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে । এতে বলা হয়েছে কমপক্ষে ৩০ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ গতিতে খরচ বৃদ্ধি । সিপ্রি বলেছে, বেশির ভাগ খরচ ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে অন্যান্য দেশগুলিও  রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় সামরিক খরচ বৃদ্ধি করেছে।উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দ্বীপে আগ্রাসন চালিয়ে তা দখল করে নেয় রাশিয়া।এতে সমর্থন দেয় তখন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীরা। সেই ঘটনার জের ধরে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। এর ফলে রাশিয়ার প্রতিবেশী অথবা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল এমন দেশগুলোতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফিনল্যান্ড তার সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে দেয় শতকরা ৩৬ ভাগ। লিথুনিয়া বাড়ায় শতকরা ২৭ ভাগ। রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ডের প্রায় ১৩৪০ কিলোমিটার সীমান্ত। এই দেশটি এই এপ্রিলেই ন্যাটোর ৩১তম সদস্য হয়েছে। অন্যদিকে সামরিক সুইডেনও এখন ন্যাটো জোটে যুক্ত হতে চাইছে। করেছে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ সামরিক ব্যয়ের দেশ হলো চীন। ২০২২ সালে তাদের এ খাতে ব্যয় ছিল প্রায় ২৯২০০ কোটি ডলার। ২০২১ সালের তুলনায় এই পরিমাণ শতকরা ৪.২ ভাগ বেশি। এটা টানা ২৮ বছরের ব্যয়বৃদ্ধির ঘটনা।সামরিক খাতে এই ব্যায় বৃদ্ধি এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমরা ক্রমেই অনিরাপদ একটি বিশ্বে বসবাস করছি।

খবরটি শেয়ার করুণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন


সম্পাদকীয়

বিশ্ব উস্নায়ন এবং তাকে কেন্দ্র করে জলবায়ু পরিবর্তন একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এটি  ধীরে ধীরে একাধিক উপায়ে মানব সমাজকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এটি প্রায় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।ইতিমধ্যে এটি আমাদের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং আমাদের জীবন যাত্রার উপর ব্যাপক ভাবে প্রভাব দেখাতে শুরু করেছে ।সদ্য হয়ে যাওয়া হিমাচল প্রদেশের বন্যা আমাদের সামনে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিল । এবছর হিমাচল প্রদেশে বর্ষাকালে রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে ,যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় বহু গুণ বেশী।  ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হিমাচল প্রদেশে ১ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৪৯.৬ মিমি যা স্বাভাবিক গড় ৭৬.৬ মিমি থেকে প্রায় ৭০% বেশী .....বিস্তারিত পড়ুন

আমন্ত্রণপত্রে, বর ও কনের নামের সাথে আইআইটি লেখায় বিতর্ক সোশ্যাল মাধ্যমে  

উত্তরাপথঃ বিবাহের সময়, অভিনব এবং ডিজাইনার আমন্ত্রণ কার্ডগুলি সর্বদা সকলের আলোচনায় পরিণত হয়। কিছু আমন্ত্রণ পত্র বিলাসবহুল চকোলেটের সাথে কাস্টমাইজ করে বানানো হয়,আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে বায়োডিগ্রেডেবল কার্ডের সাথে  উপহার হিসাবে গাছ দেওয়া হয়।  সম্প্রতি, একটি পুরাতন বিবাহের আমন্ত্রণপত্র ইন্টারনেটে ভাইরাল হচ্ছে যা বর এবং কনের শিক্ষাগত যোগ্যতা গুলিকে হাইলাইট করে বানানো হয়েছে । অর্থাৎ কার্ডে বর ও কনের নামের সাথে তাদের পড়াশোনার ডিগ্রিকেও যুক্ত করা হয়েছে। .....বিস্তারিত পড়ুন

মহারানী পদ্মাবতী এবং জোহরের ঐতিহ্য: সাহস ও আত্মত্যাগের এক গল্প

উত্তরাপথঃ ভারতের ইতিহাসে, এমন অনেক গল্প রয়েছে যা সময়কে অতিক্রম করে আমাদের সম্মিলিত চেতনায় এক অমোঘ চিহ্ন রেখে যায়। তেমনই একটি গল্প মহারানী পদ্মাবতী ও জোহরের ঐতিহ্য। সাহস, সম্মান এবং ত্যাগের এই গল্প প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং আমাদের কল্পনাকে মুগ্ধ করে চলেছে।ভারতীয় ইতিহাসের পাতায় অত্যন্ত সুন্দরী ও সাহসী মহারানী পদ্মাবতী'র উল্লেখ আছে।  রানী পদ্মাবতী রানী পদ্মিনী নামেও পরিচিত।  রানী পদ্মাবতীর পিতা ছিলেন সিংহল প্রদেশের (শ্রীলঙ্কা) রাজা গন্ধর্বসেন।ইতিহাসে রানী পদ্মিনী তার ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং বীরত্বের জন্য পরিচিত হলেও, তিনি করুণা এবং শক্তির প্রতীক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দিল্লির শক্তিশালী শাসক আলাউদ্দিন খিলজি তার অতুলনীয় সৌন্দর্যের কথা শুনে তাকে অধিকার করার সংকল্প করেছিলেন। .....বিস্তারিত পড়ুন

রবি কিরণে “আদিত্য”

ড. সায়ন বসুঃ বীর "বিক্রমে" চাঁদের মাটিতে পা রাখার পর এবার ভারতীয় মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র (ISRO)-এর লক্ষ্য সূর্য | আমাদের ৮টি গ্রহ (প্লুটো এখন বামন গ্রহের তালিকায়) যাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে সেই সূর্যের দিকে পাড়ি দিয়েছে "আদিত্য" ২রা সেপ্টেম্বর| চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের ১০ দিনের মাথায় আদিত্যকে সূর্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিয়ে ISRO বাকি বিশ্বের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রগুলির কাছে যে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছে তা বলাই বাহুল্য| আদিত্য মিশনের সূচনা ২০০৮ সালের জানুয়ারী মাসে মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কিত একটি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে|প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয় যে একটি ছোট এবং কম ওজনের (৪০০ কেজি) কৃত্রিম উপগ্রহকে low Earth orbit (LEO ;লিও) যে কক্ষপথের উচ্চতা ১,২০০ কিলোমিটারের থেকে কম সেখানে পাঠানো হবে এবং তার কাজ হবে সূর্যের একদম যে বাইরের স্তর যাকে আমরা সৌর-করোনা বলি তার সম্বন্ধে তথ্য পাঠানো। .....বিস্তারিত পড়ুন

Scroll to Top