যুক্তিবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ প্রবীর ঘোষও আমি

ড. জীবনকুমার সরকার

৭ এপ্রিল ২০২৩ প্রয়াত হলেন যুক্তিবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ প্রবীর ঘোষ। তাঁর প্রয়াণে দেশ ভারাক্রান্ত। যুক্তিবাদীরা চরম মর্মাহত। আমিও। তাঁর সঙ্গে কীভাবে জড়িয়েছিলাম সে এক ইতিহাস। ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিক পাস করে গাজোল হাইস্কুলে সবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। নতুন বইয়ের মধ্যে ডুবে আছি। আর নিয়মিত ক্লাস করছি। এইভাবে পুজোর ছুটি এসে যায়। পুজোর ছুটির আগের দিন অর্থাৎ যেদিন স্কুল হয়ে এক মাসের জন্য বন্ধ থাকবে স্কুল, সেইদিন আমি আর রাজেন লাইব্রেরীতে যাই। রাজেন আমার ছাত্রজীবনের সেরা বন্ধু। দুজনে কী বই নেবো, কী ধরনের বই নিয়ে এক মাসের ছুটিতে পড়বো —— এইসব ভাবছি আর বই ঘাটছি।

এমন সময় আমার নজরে আসে অদ্ভুত প্রচ্ছদ চিত্র ওয়ালা একটি বই। যেখানে একটি মরা মাথার খুলি সিগারেট খাচ্ছে। বইটির নাম ’অলৌকিক নয়, লৌকিক’ দ্বিতীয় খণ্ড। লেখক প্রবীর ঘোষ।

রাজেনকে বললাম, শোন, তাহলে এই বইটি লাইব্রেরির কার্ডে তুলে নিই। জানা যাবে ভূতের গল্প কেমন হয়। তার আগে আমি শরৎচন্দ্রের প্রায় একশটি গল্প পড়ে ফেলেছি। অন্যদেরও কিছু কিছু পড়েছি। শরৎচন্দ্রের ’রামের সুমতি’ পড়ে কেঁদে ফেলার ঘটনা আমার আজও অবাক করে। এসবের বাইরে প্রবীর ঘোষের বইটি পড়ে ভূতের গল্প কেমন হয়, ভেবে বইটি তুলে ব্যাগে ভরে স্কুল শেষে বাড়ি ফিরি।

বইটি পড়তে শুরু করেই দেখলাম এটা ভূতের গল্প নয়, ভূত তাড়ানোর গল্প। আর আমাকে পায় কে? জীবনে এমন একটি বইয়ের খুব দরকার ছিলো। ছোটোবেলা থেকে বাবার কাছে ভূত বিরোধী অনেক কথা শুনেছি। বাবা কুসংস্কার মানতেন না কোনোদিন। বিজ্ঞানচেতনামূলক বাবার সেসব কথায় ভূতের ভয় তবু যেতো শৈশবে। কারণ, বাড়ির সবাই ভূত মানত বাবা ছাড়া। বাবা সারাজীবন ছাত্র পড়িয়েছেন। নানা ধরনের বই পড়তেন। বাবা আজও অবিরাম বই পড়েন। আমি বাবার সাথে এই কাজে আজও পারি না কেমন যেনো। বাবার উজ্জ্বল অসাম্প্রায়িক চিন্তাচেতনা আমার কাছে একটা গৌরবের বিষয়। আসলে অসাম্প্রদায়িকতার পাঠ বাবার কাছেই প্রথম পেয়েছিলাম। সেটা পরে ফুলেফলে আরও বিকশিত হয়েছে।

পুজোর ছুটি শেষ হবার অনেক আগেই ’অলৌকিক নয়, লৌকিক দ্বিতীয় খণ্ড’ শেষ করে ফেলি। তারপর খুব আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে বইটি নিয়ে যাই মদনমোহন বিশ্বাসের কাছে। তার কাছে নিয়ে যাবার অর্থ হলো, তিনি কঠোর আম্বেদকরবাদী মানুষ। তাঁর কাছ থেকেই ছোটো ছোটো চটি বই পড়ে আম্বেদকরকে প্রথম জানার সুযোগ হয় আমার। আমার মতো অনেককেই উনি আম্বেদকরের বই পড়তে দিতেন। আমাদের মাশলদিঘি গ্রামে মদনমোহন বিশ্বাস একটা আলো। একটা প্রদীপ। মাশলদিঘি গ্রামে নয় কেবল, গোটা গাজোল জুড়ে আম্বেদকরবাদী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিলো বেশ। তিনি না থাকলে আমি আম্বেদকর সম্পর্কে ওই বয়সে জানতে পারতাম না এত তাড়াতাড়ি। তাই প্রবীর ঘোষের বইটি নিয়ে তাঁকে দিই, যাতে আম্বেদকর দর্শনের সঙ্গে যুক্তিবাদী আন্দোলনের একটা সমন্বয় গড়ে ওঠে।

মদনমোহন বিশ্বাস বইটি পড়ে নিরঞ্জন মণ্ডলকে পড়তে দিয়েছিলেন। নিরঞ্জন মণ্ডল পড়ে নিয়ে আবার দিয়েছিলেন সুনীলকুমার রায়কে। বইটি তারপর আমাদের গ্রামে কিছুদিন ঘুরতে লাগলো এভাবে। ইতিমধ্যে আমি উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ঢুকি। ১৯৯৮ সালের মাঝামাঝি আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই প্রবীর ঘোষ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ’ ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র একটি শাখা সংগঠন খোলার। এই মর্মে প্রবীর ঘোষের সঙ্গে ফোনে কথা বলি এবং চিঠি চালাচালি করি। অবশেষে মাশালদিঘিতে শাখা সংগঠন খোলার অনুমতিপত্র আসে প্রবীর ঘোষের স্বাক্ষর সম্বলিত। সেই দলিলটি আজও অক্ষত আছে। আর কত যে স্মৃতি আছে, তার হিসেব নেই। এত বছর পর লিখতে হচ্ছে বলে সবকিছু মনে পড়ছে না হয়তো।

শাখা সংগঠন খোলার ঐতিহাসিক অনুমতিপত্র তো এলো। সংগঠনও খুললো। আমাকে করা হলো মাশলদিঘি শাখার সম্পাদক। সভাপতি হলেন নিরঞ্জন মণ্ডল। মদনমোহন বিশ্বাস হলেন কোষাধ্যক্ষ। গ্রামে সুনীলকুমার রায়ের প্রভাব আছে বলে আমরা তাকে উপদেষ্টা হিসাবে রাখলাম। আর কয়েকজন ছিলো সদস্য। খুব সম্ভবত প্রথম দিকে আমরা ১০/১২ জনের মতো ছিলাম। পড়ে সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ২৫/৩০ জনের মতো। সমস্যা হলো, নিরীশ্বরবাদী এমন বিজ্ঞানচেতনা নির্ভর সংগনের কাজ মাশলদিঘির মতো পিছিয়ে পড়া একটি গ্রামে কীভাবে করা সম্ভব? প্রতি পদে পদে সমস্যা আর প্রতিবন্ধকতা। তবু আমরা মাঠে নামলাম সাহস করে। শুরু হলো মাসিক সভা। প্রতি মাসের শেষ রবিবার করে সভা অনুষ্ঠিত করতাম মাশালদিঘি বাজারের মধ্যে। বটতলায়। আমার ছোটো মামার দোকানে। মালদা জেলার অখ্যাত এই গ্রামে সেদিন সূচিত হলো এক ইতিহাস। জেলায় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রে মাশিদিঘি গ্রাম যে ভূমিকা নিয়েছিল সেদিন, তা সত্যিই অবাক করে দেবার মতো ঘটনা।

বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী আন্দোলনের কাজ শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই গাজোল থেকে এসে মাশালদিঘি শাখায় যোগ দিলেন সুবোধ সূত্রধর, অনিমেষ দাস, হরষিত বিশ্বাস প্রমুখরা। সদস্য দিন দিন বেড়ে যাবার ফলে আমরা কিছুটা সাহসী ও শক্তিশালী হলাম। এর মধ্যে আর একটি কথা বলে রাখা দরকার, যুক্তিবাদী আন্দোলনে সুবোধ সূত্রধরের কথা সহজে ভোলার নয়। তিনি সাহসী এবং প্রচণ্ড উদ্যোগী। কাজ শুরু করার পর গ্রামে দিনরাত আমাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালাতে লাগলো ধর্মান্ধ আর অজ্ঞরা। মাশলদিঘি গ্রাম আর আমাদের কথা তখন গাজোলের চতুর্দিকে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, যুক্তিবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ প্রবীর ঘোষকে মাশলদিঘি এনে ’অলৌকিক নয়, লৌকিক’ নামক অনুষ্ঠানটি করাবো। ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাশলদিঘিতে অনুষ্ঠান করতে আসেন প্রবীর ঘোষ। তার আগে মাশলদিঘি শাখার পক্ষে আমি আর পাঁচকড়ি মণ্ডল কলকাতা যাই সশরীরে প্রবীর ঘোষকে আমন্ত্রণ করতে। দেবী নিবাস রোডের বাড়িতে সেদিন তিনি আমাদের দুজনকে নিজের হাতে চা করে খাইয়েছিলেন। সেটা একটা বড়ো পাওয়া ছিলো জীবনে।

১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি দিন ঠিক হলো’ অলৌকিক নয়, লৌকিক’ অনুষ্ঠানের। জায়গা ঠিক করলাম আমরা মাশলদিঘি হাইস্কুল। প্রবীর ঘোষ এলেন। মালদা স্টেশন থেকে সোজা আমাদের গ্রামে। প্রথমেই তাঁকে নিয়ে আমরা একটি বিজ্ঞানচেতনা মূলক ও যুক্তিবাদী রেলি বের করে গোটা গ্রাম ঘুরলাম। তারপর দুপুরে মশালদিঘি হাইস্কুলের একটি ঘরে শুরু হলো ’ অলৌকিক নয়, লৌকিক’ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। কত মানুষ! শিক্ষক, চিকিৎসক সহ নানা পেশার মানুষ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ। অনুষ্ঠান চলাকালীন ধর্মান্ধরা নানাভাবে অনুষ্ঠান বানচাল করার চেষ্টা করছিল। প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষ করে আমরা দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু করেছি কেবল, এমন সময় সুনীলকুমার রায়ের বাড়ি খবর আসে মশালদিঘি বাসস্ট্যান্ডে আমাদের অতিথিদের ওপর হামলা করেছে একদল ধর্মান্ধ দুষ্কৃতি ও সমাজবিরোধী। দুঃখজনক এই সংবাদ শুনে সুনীলকুমার রায় সদলবলে ধর্মান্ধদের প্রতিরোধ করতে যান। বাসস্ট্যান্ডের ওপর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। গাজোল থানার পুলিশ এসে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির মাথাকে অ্যারেস্ট করে থানায় নিয়ে যান। সেদিনের এই ঘটনায় সুনীলকুমার রায়ের ভূমিকা দেখে আমার শ্রদ্ধা বেড়ে যায় উনার ওপর। নিরঞ্জন মণ্ডলের পরিবারের ভূমিকাও ছিলো বেশ ভালো। তাঁর প্রভাবও কম ছিলো না সেদিন। আমি বরং ভয়ে কুঁকড়ে যাই। আর প্রবীর ঘোষের সম্মান কী করে রক্ষা করা যায়, তাই ভাবতে থাকি। অনেক রাতে থানায় দুপক্ষের মীমাংসা হয়। না হলে ওই মৌলবাদী দুষ্কৃতির জেল নাকি নিশ্চিত ছিলো। প্রবীর ঘোষ ওই দিন রাতেই কলকাতা চলে যান। বিষয়টি নিয়ে পরের দিন খবরের কাগজগুলিতে গুরুত্ব সহকারে খবর প্রকাশিত হয়।

এরপরও আমরা দমে যাইনি। আমাদের সংগঠন লাগাতার কাজ চালিয়ে গেছে। যার স্বীকৃতিস্বরূপ আমাদের মশালদিঘি শাখা সংগঠনটি ২০০২ সালে ভারতের শ্রেষ্ঠ শাখা হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। সর্বভারতীয় এই স্বীকৃত আজও মশালদিঘি মদনমোহন বিশ্বাসের কাছে জমা আছে। এই স্বীকৃতির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের গ্রামের নাম পৌঁছে যায় সারা দেশের যুক্তিবাদীদের কাছে। এরপরের ঘটনা সংগঠন ভাঙনের ঘটনা। উচ্চ শিক্ষার জন্য আমি চলে যাই বাইরে। ফলে মশালদিঘি শাখার সম্পাদক থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে সভাপতি নিরঞ্জন মণ্ডল খুব পীড়াপিড়ি করেন অব্যাহতি না নেবার জন্য। ছেড়ে দিতে আমারও কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু কোনো উপায় ছিলো না। আমি ছেড়ে যাবার পর গাজোলের সুবোধ সূত্রধরের নেতৃত্বে গোজোল শাখা সংগঠন গড়ে ওঠে। সেখানেও প্রবীর ঘোষ আসেন। দাপিয়ে অনুষ্ঠান করেন

প্রবীর ঘোষের ’অলৌকিক নয়, লৌকিক’ দ্বিতীয় খণ্ড বইটি আমার জীবনকে আমূল পাল্টে দেয় এবং যুক্তিবাদী প্রবীর ঘোষ নামক এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেয়। এরপর প্রবীর ঘোষের সব বই আমি সংগ্রহ করি এবং পড়ি। যত পড়েছি তত মুগ্ধ হয়েছি। তবে আমার ভালো লেগেছে ব্যক্তি প্রবীর ঘোষ থেকে যুক্তিবাদী প্রবীর ঘোষকে। ব্যক্তি প্রবীর ঘোষের আচার- ব্যবহার আমার কোনোদিন ভালো লাগেনি তেমন। এই নিয়ে গাজোলের ব্লক কমিউনিটি চত্বরে ধরণীধর সরকার সভা ঘরে একবার প্রবীর ঘোষের সঙ্গে আমার তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। সে স্মৃতি আজও ভুলিনি। তবু প্রবীর ঘোষ আমার প্রণম্য। মাঝে মাঝে কলকাতা বইমেলায় দেখা হতো। কথা হতো। সুতরাং, তিনি চলে গেলেও আমার ভেতরে রয়ে গেছেন। আজ নতুন মোড়কে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ধর্মকে যেভাবে মানুষের মধ্যে ছড়ানো হচ্ছে, তাতে আমরা বিপন্ন বোধ করছি। প্রবীর ঘোষকে আরও বেশি বেশি করে মনে পড়ছে। আমি তাঁর বইয়ের কাছে ছুটছি। বাঁচার জন্য তাঁকে আরও কাছে টানছি।

৭ এপ্রিল ২০২৩ তিনি চলে যান। খবরটি শুনে এত কষ্ট পেলাম, যা ভাবার নয়। ভারতের মতো ধর্মান্ধতায় পরিপূর্ণ নরকভূমিতে প্রবীর ঘোষের মতো যুক্তিবাদী বিজ্ঞানীর চলে যাওয়া মানে বিরাট ক্ষতি। ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতবর্ষে জাতপাত আর ধর্মীয় কুসংস্কারে আজও মানুষ বুঁদ হয়ে আছে। ধর্মান্ধ এদেশে বিজ্ঞান পড়েও লোকে জলপড়া খায়, ওঝার কাছে যায়, ডাক্তার হয়েও জ্যোতিষ শাস্ত্র বিশ্বাস করে, হাতে পাথর ধারণ করে, মাদুলি পরে, শনির কাছে প্রার্থনা করে, মাজারে মোমবাতি জ্বালায়, আরও কত কী যে করে তার ঠিক নেই। হাজার হাজার বছরের পুরনো ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, জাতি বিদ্বেষ, বর্ণঘৃণা, নারী নির্যাতন সবকিছুর মূলে রয়েছে ওই কাল্পনিক ধর্ম আর তার প্রচারকরা। এদের বিরদ্ধে প্রবীর ঘোষ আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মানবতার এত বড়ো যোদ্ধা ভারতে বিরল ছিলো। স্বঘোষিত বহু ধর্মগুরুদের তিনি মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন। আমরা যারা মার্কসবাদ এবং আম্বেদকরবাদ নিয়ে সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখি, তাদের কাছে প্রবীর ঘোষের যুক্তিবাদী আন্দোলন বিশল্যকরণী। প্রবীর ঘোষকে হারিয়ে আমার মতো অনেকেই পিতৃহারা হলেন। আসলে প্রবীর ঘোষের মতো যুক্তিবাদী নেতার কোনো মৃত্যু নেই। তিনি আছেন, থাকবেন।

খবরটি শেয়ার করুণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন


Electoral Bond এর গোপনীয়তা সরিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে, জানাতে হবে প্রাপ্ত অনুদানের পরিমাণ

উত্তরাপথঃ বুধবার, নির্বাচনী বন্ড (Electoral Bond)প্রকল্পের আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের শুনানি হয়। শীর্ষ আদালত তার মন্তব্যে বলেছে, 'নির্বাচনী বন্ডগুলি রাজনৈতিক দলগুলিকে বেনামী অর্থ প্রদান করে, কারণ তাদের কেনাকাটা সম্পর্কিত রেকর্ডগুলি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছে উপলব্ধ যা শুধুমাত্র তদন্তকারী সংস্থাগুলি অ্যাক্সেস করতে পারে৷ এর আগে নির্বাচনী বন্ড’ (Electoral Bond) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) কেন্দ্র দাবি করেছিল, রাজনৈতিক দলগুলির আয়ের উৎস জানার অধিকার নেই জনতার।এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৎপর হল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)।বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে যাবতীয় হিসেব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।নির্বাচনী বন্ডের (Electoral Bond)মামলায় কেন্দ্রের আর্জি সত্বেও সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক দলগুলিকে আয়ের উৎস জানাতে বলেছিল। আদলত নির্দেশ দিয়েছিল, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল কত অনুদান মিলেছে, সেই তথ্য বন্ধ খামে জানাতে হবে।এর আগেও নির্বাচনী বন্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাধিক মামলা হয়েছে শীর্ষ আদালতে। মামলাকারীরা অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলি এই নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ বিদেশ থেকে পেতে পারে এর ফলে গণতন্ত্র ধ্বংস হবে। যদিও কোনও রাজনৈতিক দলই এই দাবি মানতে চায়নি। ৩ অক্টোবর মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব তথ্য দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এই রায়ের পরেই তৎপর হল কমিশন। .....বিস্তারিত পড়ুন

Fructose: নতুন গবেষণায় ফ্রুক্টোজকে স্থূলতার কারণ বলা হয়েছে

উত্তরাপথঃ একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জোরালো প্রমাণ দেওয়া হয়েছে যে ফ্রুক্টোজ (Fructose), সাধারণত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং পানীয়গুলিতে থাকা এক ধরনের চিনি, যা স্থূলতার প্রাথমিক চালক। বছরের পর বছর ধরে, পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা , পাশ্চাত্য খাদ্যে, স্থূলতার মূল কারণ নিয়ে বিতর্ক করেছেন, কেউ কেউ অত্যধিক ক্যালোরি গ্রহণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, অন্যরা কার্বোহাইড্রেট বা চর্বি জাতীয় খাবারকে দায়ী করেছেন। Obesity জার্নালে সাম্প্রতিক একটি গবেষণাপত্রে ফ্রুক্টোজকে স্থূলতার প্রকৃত চালক হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।The University of Colorado Anschutz Medical Campus এর Dr. Richard Johnson এবং তার দলের মতে, ফ্রুক্টোজ হল একটি সাধারণ চিনি যা ফল এবং মধুর প্রাথমিক পুষ্টি। .....বিস্তারিত পড়ুন

Fried rice syndrome: আগের দিনের রান্না করা ভাত খেলে হতে পারে এই বিশেষ অসুখটি

উত্তরাপথঃ আপনার কি বাসী ভাত বা পান্তা খাওয়ার অভ্যেস আছে? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় ফ্রাইড রাইস সিনড্রোম (Fried rice syndrome) নিয়ে আমরা প্রায়ই অবশিষ্ট খাবার গরম করে আবার খাই। কিন্তু জানেন কি এই অভ্যাস আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। অনেক সময় পর আগের রান্না করা  ভাত খাওয়ার ফলে পেট সংক্রান্ত সমস্যা হয়। কেউ কেউ মনে করেন যে খাবার পুনরায় গরম করলে এতে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া মারা যায়, কিন্তু তা নয়। যে খাবারেই স্টার্চ থাকে না কেন, এতে উপস্থিত টক্সিন তাপ প্রতিরোধী। অর্থাৎ খাবার গরম করার পরও ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয় না। ফ্রাইড রাইস সিনড্রোম নামে এই সমস্যা সম্পর্কিত একটি অবস্থা রয়েছে। আজ আমরা এই ফ্রাইড রাইস সিনড্রোম অবস্থার লক্ষণ, কারণ এবং প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব। ভাত রান্না করার পর, যখন অবশিষ্ট ভাত কয়েক ঘন্টা বা সারারাত ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া হয় এবং তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে শুরু করে, তখন এই অবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ফ্রাইড রাইস সিনড্রোম। .....বিস্তারিত পড়ুন

সেলফির উচ্চ রেটিং কি আপনাকে আরওপাতলা হতে উৎসাহিত করছে ?

উত্তরাপথঃ সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সেলফি তোলা এবং নিজেকে পাতলা হিসাবে দেখানোর মধ্যে একটি সম্পর্ক থাকতে পারে। যুক্তরাজ্যের ইয়র্ক সেন্ট জন ইউনিভার্সিটির রুথ নাইট এবং ইউনিভার্সিটি অফ ইয়র্কের ক্যাথরিন প্রেস্টন সম্প্রতি PLOS ONE জার্নালে তাদের ফলাফল প্রকাশ করেছেন।সেখানে সেলফির উচ্চ রেটিং এবং আমাদের শরীরের গঠনের মধ্যে যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।    বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলফি হল এক জনপ্রিয় ছবি দেওয়ার ধরন। যিনি সেলফি তোলেন তিনি ক্যামেরাকে তাদের শরীর থেকে দূরে রেখে নিজেই নিজের ছবি তোলে। আগের গবেষণায় বলা হয়েছে সেলফিগুলি দেখার ফলে ছবির বিষয়গুলি সম্পর্কে দর্শকদের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে। .....বিস্তারিত পড়ুন

Scroll to Top