মোদীময় New Parliament Building -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

উত্তরাপথ

ছবি- টুইটার

নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  নতুন সংসদ ভবনের পুজোয় বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।  রবিবার, একটি বড় ধর্মীয় আচারের পরে, সাধুরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে সেঙ্গোল হস্তান্তর করেছেন, যা ভারতের নতুন সংসদ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ১৯টি বিরোধী দল নতুন সংসদ ভবনের বিরোধিতা করে এবং এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বয়কট করে।  প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে ভারতীয় সংসদের নতুন ভবন আমাদের সকলকে গর্ব ও আশায় ভরিয়ে দেবে।  তিনি বলেন, “আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে, এই ঐশ্বরিক ও বিশাল ভবন জনগণের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি জাতির সমৃদ্ধি ও শক্তিতে নতুন গতি ও শক্তি যোগাবে।”

নতুন সংসদ ভবনে ঐতিহাসিক সাঙ্গোল স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তামিলনাড়ুর সাধুদের মন্ত্রোচ্চারণের পর লোকসভায় স্পিকারের চেয়ারের কাছে সাঙ্গোল স্থাপন করেন।  উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বর্ণনা করে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নতুন সংসদ ভবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তত্ত্ব –

 ১। নতুন সংসদ ভবনটি ত্রিভুজাকার।  যে জমিতে নতুন সংসদ ভবন নির্মিত হয়েছে সেটি ত্রিভুজাকার।  স্থপতির মতে ত্রিভুজাকার আকৃতি বিভিন্ন ধর্মে পবিত্র জ্যামিতির একটি চিহ্ন।.

২। নতুন সংসদ ভবনের তিনতলা এবং আয়তন ৬৪,৫০০ বর্গমিটার।  নতুন সংসদে লোকসভায় 888টি আসন থাকবে।  কেন্দ্রীয় হলের অনুপস্থিতিতে, লোকসভা উভয় কক্ষের যৌথ বৈঠকের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।  একই সঙ্গে সংসদ ভবনে বসতে পারবেন ১২৭২ জন।

৩। সংসদের নতুন ভবনে লোকসভা কক্ষ তৈরি হয়েছে ময়ূরের থিমে।  এতে দেয়াল ও ছাদে খোদাই করা ময়ূরের পালকের নকশা রয়েছে।  রাজ্যসভার কক্ষটি থিম হিসাবে পদ্ম সহ একটি লাল গালিচা দিয়ে সজ্জিত।

৪। লোকসভা ও রাজ্যসভায় দুইজন সাংসদ এক মঞ্চে বসবেন এবং প্রত্যেক সাংসদের ডেস্কে একটি টাচস্ক্রিন থাকবে।  রাজ্যসভার চেম্বারে ৩৮৪ জন সদস্য …

৫। পুরনো সংসদে তিনটি কমিটি কক্ষ থাকলেও নতুন সংসদে নতুন কমিটি কক্ষ রয়েছে ৬টি।  মন্ত্রী পরিষদের কার্যালয় হিসেবে ৯২টি কক্ষ করা হয়েছে।

৬। নতুন সংসদ নির্মাণে সারাদেশ থেকে নির্মাণসামগ্রী আনা হয়েছে।  এর মধ্যে রয়েছে ধোলপুরের সরমাথুয়া থেকে প্রাপ্ত বেলেপাথর, রাজস্থানের জয়সলমেরের লাখা গ্রামের গ্রানাইট পাথর ইত্যাদি।  আসবাবপত্রে ব্যবহৃত কাঠ নাগপুর থেকে এসেছে এবং কাঠের স্থাপত্যটি মুম্বাইয়ের একজন কারিগর দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছে।  উত্তরপ্রদেশের ভাদোহির তাঁতিরা নতুন সংসদের জন্য হাতে বোনা কার্পেট তৈরি করেছেন।

৭। নতুন সংসদ ভবন জাতীয় প্রতীকে পরিপূর্ণ।  এতে অশোকের সিংহও রয়েছে যার ওজন ৯৫ শত কেজি এবং উচ্চতা ৬.৫ মিটার।  অশোক চক্র এবং সত্যমেব জয়তে শব্দগুলি নতুন সংসদের প্রবেশপথে পাথরে লেখা রয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন


দীপাবলির সময় কেন পটকা ফোটানো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যায় না ?

উত্তরাপথঃ দীপাবলির পরের দিন, যখন কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (CPCB) শহরের বায়ু মানের সূচকের তালিকা প্রকাশ করে,তখন  দেখা যায় রাজধানী দিল্লি বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দূষিত শহরের প্রথমেই রয়েছে। CPCB-এর মতে, ১২ নভেম্বর বিকেল ৪ টায় দিল্লির বায়ু মানের সূচক ছিল ২১৮ যা ভোরের দিকে বেড়ে ৪০৭ এ পৌঁছায় । ৪০০ – ৫০০ AQI  এর স্তর সুস্থ ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে। দীপাবলির সারা রাত, লোকেরা পটকা ফাটিয়ে দীপাবলি উদযাপন করে। ১৩ নভেম্বর বিকেল ৪ টায় কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ আবার তথ্য প্রকাশ করে এই তালিকায়, দিল্লির গড় বায়ু মানের সূচক ছিল ৩৫৮ যা 'খুব খারাপ' বিভাগে পড়ে।   বায়ু দূষণের এই পরিস্থিতি শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।  নয়ডার বায়ু মানের সূচক ১৮৯ থেকে ৩৬৩ এ এবং রোহতক, হরিয়ানার ১৩৭ থেকে বেড়ে ৩৮৩ হয়েছে। দীপাবলির দুই দিন দিল্লি ,নয়ডা  ,কলকাতা, মুম্বাই সহ দেশের অন্যান্য শহরেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এই দিনগুলিতে মানুষ বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জাতীয় রাজধানী দিল্লি এবং নয়ডায় সবুজ পটকা ছাড়া যে কোনও ধরণের আতশবাজি ফাটান সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ। আদালত সবুজ পটকা পোড়ানোর সময়ও নির্ধারণ করে দিয়েছে রাত ৮টা থেকে ১০টা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের মানে কী?  আদালতের এই আদেশ কি এখন প্রত্যাহার করা উচিত?  পুলিশ কেন এই আদেশ কার্যকর করতে পারছে না?  এর জন্য কি পুলিশ দায়ী নাকি সরকারের উদাসীনতা রয়েছে এর পেছনে? .....বিস্তারিত পড়ুন

সহযাত্রী

দীপা - আর তো এগারো বছর আটমাস বারোদিন চাকরি , তাই না ? অংশু - বাপরে বরাবরই তোমার স্মৃতিশক্তি প্রবল , এতোটা মনে আছে ? দীপা- ঘোরো টো টো করে আর কটা বছর , আফটার রিটায়ার্ড মেন্ট কি করবে ? অংশু - ফার্ম হাউস ,গাছপালা পশুপাখি নিয়ে থাকবো। দীপা- বাঃ উন্নতি হয়েছে। যে অংশুবাবু কখনও একটা ফুলের চারা লাগায়নি সে কিনা ফার্ম হাউস করবে … অংশু - সময়ের সাথে সব বদলায় ম্যাডাম , আচ্ছা তোমার কনুইয়ের নীচে সেই পোড়া দাগটা দেখি তো গেছে কিনা … দীপা- তুমি অনেক রোগা হয়ে গেছো , তা ওজন কত শুনি ? অংশু - সত্তর বাহাত্তর হবে বোধহয় মাপিনি, দীপা - তা কেনো মাপবে ? একটা অগোছালো মানুষ। অংশু - যাক বাবা তাও অপদার্থ শব্দ টা বলোনি। দীপা - ভাবোনা ডিভোর্স হয়েছে বলে সে অধিকার নেই। সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক হয়েও আসলে সমাজটাই শেখোনি , আর কি শিখেছো বলো, ঐ ছেলে পড়ানো , সেমিনার আর লেখালেখি। তা ধন্যবাদ তোমার রূপালী ঠৌট উপন্যাস এবছর একাডেমি পেলো , দারুণ লেখো তুমি, আগের চেয়ে অনেক ধার। অংশু- বাঃ তুমি পড়েছো ? দীপা- সব পড়েছি , তোমার রিসেন্ট উপন্যাসের নায়িকা মেঘনা টি কে ? মানে কার আড়ালে কাকে লিখেছো ? অংশু - এও কি বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপিকাকে বলে দিতে হবে ? দীপা- বারোটা বছর সময়ের শাসনে অনেক বদলালেও আমি বোধহয় সেই বড্ড সেকেলেই রয়ে গেলাম। অংশু - একা একাই কাটিয়ে দিলে বারো বছর। দীপা- একই প্রশ্ন আমিও করতে পারি। অংশু - আচ্ছা দীপা আজ না হয় শেষবারের মতো বলি, আমার মধ্যে কি ছিলো না বলোতো ? কেনো পারোনি এই বাউন্ডুলে ভবঘুরে মানুষটার সাথে চিরকালের ঘর বাঁধতে ? আমি কি ভালোবাসতে জানি না ? .....বিস্তারিত পড়ুন

Bandna Festival: ছোটনাগপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পাঁচ দিন বাঁদনার আমেজে মশগুল থাকে

বলরাম মাহাতোঃ চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী কার্তিক অমাবস্যার আগের দিন থেকে মোট পাঁচ দিন ব্যাপী বাঁদনার(Bandna Festival) আমেজে মশগুল থাকে ছোটনাগপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। অবশ্য, পরবের শুভ সূচনা হয় তারও কয়েকদিন আগে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের সামাজিক শাসন ব্যবস্থার চূড়ামণি হিসাবে গাঁয়ের মাহাতো, লায়া, দেহরি কিম্বা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি নির্ধারণ করেন- ৩, ৫, ৭ বা ৯ ক’দিন ধরে গবাদি পশুর শিং-এ তেল মাখাবে গৃহস্বামী! রুখামাটির দেশের লোকেরা কোনোকালেই মাছের তেলে মাছ ভাজা তত্ত্বের অনুসারী নয়। তাই তারা গোরুর শিং-এ অন্য তেলের পরিবর্তে কচড়া তেল মাখানোয় বিশ্বাসী। কারণ কচড়া তেল প্রস্তুত করতে গোধনকে খাটাতে হয় না যে! কচড়া তেলের অপ্রতুলতার কারণে বর্তমানে সরষের তেল ব্যবহৃত হলেও, কচড়া তেলের ধারণাটি যে কৃষিজীবী মানুষের গবাদি পশুর প্রতি প্রেমের দ্যোতক, তা বলাই বাহুল্য! এভাবেই রাঢ বঙ্গে গোবর নিকানো উঠোনে হাজির হয়- ঘাওয়া, অমাবস্যা, গরইয়া, বুঢ়ি বাঁদনা ও গুঁড়ি বাঁদনার উৎসবমুখর দিনগুলি। পঞ্চদিবসে তেল দেওয়া, গঠ পূজা, কাঁচি দুয়ারি, জাগান, গহাইল পূজা, চুমান, চউক পুরা, নিমছান, গোরু খুঁটা, কাঁটা কাঢ়া প্রভৃতি ১১টি প্রধান পর্ব সহ মোট ১৬টি লোকাচারের মাধ্যমে উদযাপিত হয় বাঁদনা পরব(Bandna Festival )। .....বিস্তারিত পড়ুন

রাতের ঘামের সমস্যা এবং এ সম্পর্কে আপনি কি করতে পারেন  

উত্তরাপথঃ রাতের ঘামের সমস্যা শরীরের কুলিং সিস্টেমের একটি স্বাভাবিক অংশ, তাপ মুক্তি এবং সর্বোত্তম শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।তবে রাতের ঘাম একটি সাধারণ সমস্যা যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে।এর  অস্বস্তিকর অনুভূতির জন্য ঘুম ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। আপনি যদি রাতে অতিরিক্ত ঘাম অনুভব করেন, তাহলে তার অন্তর্নিহিত কারণটি চিহ্নিত করা এবং এটি মোকাবেলার জন্য কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রাতের ঘামের কিছু সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা করা হল।মেনোপজ: যে কেউ, বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে, রাতের ঘাম অনুভব করতে পারে। .....বিস্তারিত পড়ুন

Scroll to Top