তৃতীয় পাতা


দিল্লিতে নর্দমা পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু: অবহেলা এবং বৈষম্যের এক বিশ্বব্যাপী সমস্যা
প্রীতি গুপ্তাঃ শুক্রবার দিল্লির নরেলাতে নর্দমা পরিষ্কার করার সময় শ্বাসরোধে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু কেবল ভারতেই নয়, বিশ্বের অনেক জায়গায় এখনও এটি একটি বড় সমস্যা। এই ধরনের ঘটনা রোধ করার লক্ষ্যে নিয়মকানুন থাকা সত্ত্বেও, সরকারি বিভাগগুলির সেগুলির সঠিক প্রয়োগ এবং গুরুত্বের অভাব বহু মানুষের জীবনহানির কারণ হচ্ছে। তাহলে কেন সুরক্ষা ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয় না ,যার ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। ভারতে, নর্দমা পরিষ্কার প্রায়শই ম্যানুয়ালি করা হয়, শ্রমিকরা যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই সীমিত স্থানে প্রবেশ করে। নর্দমায় বিষাক্ত গ্যাস, যেমন হাইড্রোজেন সালফাইড, কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারাত্মক হতে পারে। নরেলাতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরেকজন কর্মী অজ্ঞান হয়ে পড়েন, যা এই ধরনের কাজের বিপদকে তুলে ধরে। দুঃখের বিষয়, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায়দিনই একই রকম দুর্ঘটনা ঘটে, অবহেলা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অভাবে শ্রমিকরা প্রাণ হারান। বিশ্বব্যাপী তুলনা: অন্যান্য দেশ কীভাবে নর্দমা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করে আমাদের দেশে যখন এখনও হাতে নর্দমা পরিষ্কারের পদ্ধতি চালু রয়েছে তখন অনেক দেশ নিরাপদ এবং আরও উন্নত পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং জাপানের মতো উন্নত দেশগুলি নর্দমা পরিষ্কার করার জন্য রোবোটিক মেশিন এবং উচ্চ-চাপের জেট ব্যবহার করে, যা মানুষের প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা দূর করে। কঠোর শ্রম আইন এবং সুরক্ষা বিধি শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো মধ্যম আয়ের দেশগুলিও যান্ত্রিক পরিষ্কার ব্যবস্থা শুরু করেছে, যদিও সেখানে সমস্ত ক্ষেত্রে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তহবিলের কিছু সমস্যা রয়েছে। - অন্যদিকে ভারত, বাংলাদেশ এবং নাইজেরিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলি এখনও নর্দমা পরিষ্কারের জন্য কায়িক শ্রমের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। এই দেশগুলিতে শ্রমিকরা একই রকম ঝুঁকির সম্মুখীন হয়, খুব কম বা কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম বা আইনি সুরক্ষা নেই। .....বিস্তারিত পড়ুন


সম্পাদকীয় - বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলিতে নীরব সংকট
সম্প্রতি ওড়িশার কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি (KIIT) এর একজন নেপালি ছাত্র এবং হরিয়ানার অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক ছাত্রের সাম্প্রতিক মর্মান্তিক আত্মহত্যা আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মানসিক স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থার উপর স্পষ্ট আলোকপাত করেছে। এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়; এগুলি একাডেমিক চাপ, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ফাঁক প্রতিফলিত করে। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে তাদের শিক্ষার্থীদের সামনে আসা ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলির ব্যাপারে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। আজকের ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বৈচিত্র্যের ক্ষুদ্র জগৎ, বিভিন্ন অঞ্চল, অর্থনৈতিক পটভূমি এবং এমনকি জাতির শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে। KIIT একাই ৪০,০০০ দেশীয় এবং ২,০০০ আন্তর্জাতিক ছাত্র ভর্তি করে, যার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নেপালি ছাত্রের দলও রয়েছে। তবুও, এই বৈচিত্র্য প্রায়শই কঠোর বাস্তবতার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে আফ্রিকা এবং প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা শিক্ষার্থীরা প্রায়শই বিচ্ছিন্নতা, বৈষম্য এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতার মুখোমুখি হয়। একজন সহকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভের পর KIIT-এর নেপালি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের খারাপ পরিচালন ব্যবস্থাকে তুলে ধরে। একজন শিক্ষার্থীর জীবন ক্যাম্পাসে শুধুমাত্র তার একাডেমিক কঠোরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেকের কাছে, এটি তাদের প্রথমবারের মতো বাড়ি থেকে দূরে, পরিচিত মানুষদের সাহায্য ছাড়া একা পথচলা । সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে জেনেরিক কাউন্সেলিং কাঠামোর বাইরে গিয়ে সূক্ষ্ম, ব্যক্তিগতকৃত সহায়তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর আগে যখন IIT-মাদ্রাজ আত্মহত্যার ঘটনা তদন্ত করেছিল, তখন তারা একাডেমিক চাপ কমাতে ক্রীড়া কোটার মতো উদ্ভাবনী সমাধান চালু করেছিল। এই পদক্ষেপগুলি অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়, তবে বৃহত্তর কাঠামোগত পরিবর্তন .....বিস্তারিত পড়ুন


# Jaivana Cannon : ভারতীয় কামানের এক বিস্ময়
প্রীতি গুপ্তাঃ জয়বন কামান(Jaivana Cannon )বিশ্বের বৃহত্তম এবং ভারী কামানগুলির মধ্যে একটি। এটি ১৮ শতকে ভারতে তৈরি হয়েছিল এবং ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য বিস্ময় । এই কামানটি কেবল তার আকারের কারণেই নয়, এর কারুশিল্প এবং এর পিছনের গল্পের কারণেও চিত্তাকর্ষক। ১৭২০ সালে আম্বরের (আধুনিক জয়পুর) মহারাজা সওয়াই জয় সিংহ দ্বিতীয়ের রাজত্বকালে নির্মিত এই বিশাল কামানটি এখনও পর্যন্ত নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম চাকাযুক্ত কামান। জয়বন কামানের সৃষ্টি আজও ভারতীয় ধাতুবিদ্যার দক্ষতার এক শীর্ষবিন্দু হিসাবে চিহ্নিত। # ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জয়বন কামানের জন্ম ১৮ শতকের গোড়ার দিকে, ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই সময় একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করেছিল যা আঞ্চলিক রাজ্যগুলি পূরণ করতে চেয়েছিল। মুঘলদের দীর্ঘকালীন মিত্র আম্বরের (পরবর্তীতে জয়পুর) রাজপুত শাসকরা, বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন দাবি করতে শুরু করেছিলেন। মহারাজা সওয়াই জয় সিং দ্বিতীয়, একজন দক্ষ শাসক ও একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তার আগ্রহের জন্য পরিচিত ছিলেন।তিনি মারাঠাদের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজ্য এবং মুঘল উপদলের অবশিষ্টাংশের হুমকির বিরুদ্ধে তার রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য এবং তার সেনাবাহিনীর শক্তি প্রদর্শনের জন্য জয়বন কামান তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে জয়বন কামানটি জয়পুরের কাছে আরাবল্লি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত জয়গড় ফোর্টে রয়েছে। কামানের বিশাল আকারের জন্য এটিকে প্রায় ৯ ফুট ব্যাসের চাকার এক বিশেষ এক গাড়ির উপর বসানো রয়েছ। জয়বন মূলত একটি প্রতীকী প্রতিরোধক ছিল, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিবর্তে জয়পুরের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। জৈবন কামানের বৈশিষ্ট্য ১. জৈবন কামানটি প্রায় ২০ ফুট লম্বা এবং প্রায় ৫০ টন ওজনের। এর বিশাল আকার এটিকে দর্শনার্থীদের জন্য একটি অনন্য আকর্ষণ করে তোলে। ২. কামানটি ব্রোঞ্জ এবং লোহা দিয়ে তৈরি, যা তাদের শক্তি এবং স্থায়িত্বের জন্য মূলত সেই সময় বেছে নেওয়া হয়েছিল। উপকরণের এই সংমিশ্রণ কামানটিকে এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। .....বিস্তারিত পড়ুন


সম্রাট নিরো থেকে ট্রাম্পঃএ যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
প্রীতি গুপ্তাঃ এ যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি । প্রাচীনকালে, যখন রোম শহর আগুনে পুড়েছিল, তখন সম্রাট নিরো সঙ্গীত সাধনায় ব্যাস্ত ছিলেন বলে জানা যায়। এই গল্পটি এমন একজন নেতার প্রতিফলন ঘটায় যিনি তার জনগণের দুঃখ-কষ্ট থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন । আজকের দিনে আমরা আমেরিকায় একই রকম পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। ক্যালিফোর্নিয়ায় যখন দাবানল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তখন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ব্যস্ত তার নিজের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানের চাকচিক্যের মধ্যে। এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ড দমন করার চেষ্টা হচ্ছে। প্রায় ৭,৮০০ দমকলকর্মী প্রতি ঘন্টায় ৬০ থেকে ৮০ মাইল বেগে ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০,০০০ মানুষকে অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভয়াবহ দাবানলে প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। দাবানল দুঃখজনকভাবে প্রায় ২৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ।আগুনের কবলে মাত্র ৭ দিনে, ৩ লক্ষ ২১ হাজার একর এলাকা বিশিষ্ট লস অ্যাঞ্জেলেস নিজের চোখে ৪০ হাজার একর জমি ছাই হয়ে যেতে দেখেছে।এই আগুনে ২৫০ বিলিয়ন আমেরিকান ডলারের সম্পত্তি নষ্ট হয়ে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ধোঁয়া বাতাসে ভরে গেছে, এবং পরিবারগুলি সবকিছু পিছনে ফেলে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে। একদিকে যখন আমেরিকায় এই পরিস্থিতি সেই সংকটের মাঝে, দেশের নেতা তাদের নাগরিকদের কষ্ট উপেক্ষা করে তার শপথ উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করেছেন। নেতাদের এই অসংবেদনশীল আচরণ জনগণের মধ্যে নেতার নেতৃত্ব এবং দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রকৃত নেতৃত্বের অর্থ হল কঠিন সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানো। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় নেতাদের উচিত দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এক সময় চাণক্য তার অর্থশাস্ত্রে বলেছিলেন প্রজাসুখ একমাত্র রাজধর্ম হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের ভোটে নির্বাচিত রাজারা সুখে আছে সেটা বিনা প্রতিবাদে তাকিয়ে দেখাই প্রজাদের অর্থাৎ কোটি কোটি ভোটারদের ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। .....বিস্তারিত পড়ুন


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য আশীর্বাদ, নাকি এটি মানবতার জন্য একটি বিশাল হুমকি ?
উত্তরাপথঃ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সর্বদা মানুষের কাজকে সহজ এবং উন্নত করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়। কিন্তু এর পিছনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর অপব্যবহার কীভাবে রোধ করা যায়। নৈরাজ্যবাদীরা সর্বদা বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিতে বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নামক একটি নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শুরু থেকেই মানুষ প্রতিবাদ করে আসছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচার মানুষের সৃজনশীলতা, গোপনীয়তা এবং আর্থিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। কারণ এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা বিশ্বজুড়ে উপলব্ধ তথ্য অনুসন্ধান করে এবং যে কোনও ব্যক্তিকে কাঙ্ক্ষিত তথ্য সরবরাহ করে। তবে, অ্যালগরিদমিক প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই তথ্য অনুসন্ধান করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে, এই কাজটি আরও বৃহত্তর পরিসরে এবং বহুগুণ দ্রুত করা যেতে পারে। অতএব, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বিগ্ন যে AI-এর উত্থানের সাথে সাথে, সৃজনশীলতা, গোপনীয়তা এবং আর্থিক নিরাপত্তার উপর এর প্রভাব ভবিষ্যতে বড় সমস্যার জন্ম দেবে । AI দ্রুত বিপুল পরিমাণে তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করতে পারে, যা ডেটা লঙ্ঘন এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াবে বলে প্রাথমিক ভাবে অনেকে মনে করছেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে, বিভিন্ন দেশের নেতারা AI-এর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধ করার জন্য এর উপর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। উদাহরণস্বরূপ, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী ভুল তথ্য এবং সাইবার বুলিং-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানিয়েছেন। AI-কে চালিত করে এমন অ্যালগরিদমগুলিতে আরও স্বচ্ছতার আহ্বান জানানো হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে AI একটি বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ এবং মানবতার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি। তিনি সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রকেই এই বিষয়ে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, AI চিকিৎসা, শিক্ষা এবং প্রকৌশলের মতো ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে .....বিস্তারিত পড়ুন


সম্পাদকীয়- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলি কি জন কল্যাণের জন্য , নাকি ভোট সংগ্রহের জন্য 'উৎকোচ '?
আমরা এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যখন সরকারের ক্ষমতা নেই সমস্ত বেকার ছেলে-মেয়েদের চাকরি দেওয়ার। তাই নির্বাচন এলেই স্টক ক্লিয়ারেন্স সেলের মত শুরু হয়ে যায় সস্তায় সবকিছু পাইয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে ,বর্তমানে নির্বাচনের পর অধিকাংশ দল সরকার গঠনের সাথে সাথে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করে। কয়েক দশক আগে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে শুরু হওয়া এই প্রবণতা এখন প্রায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো প্রতিটি দলই এ ধরনের প্রতিশ্রুতিা দেয়, তা সত্বেও একে অপরের দিকে আঙুল তোলার কোনো সুযোগ তারা হাতছাড়া করে না। খুব সম্প্রতি দিল্লীতে এবং এরপর বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। আমআদমি পার্টি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের বেশকিছু গ্যারান্টি ঘোষণা করেছে । আমআদমি প্রধান কেজরিবালের এই বক্তব্যে কারো কি আপত্তি থাকতে পারে? যে শুনবে সে বলবে এটা একটা বুদ্ধিমানের কাজ, সব রাজনৈতিক দলগুলোরও তাই করা উচিত। কিন্তু রাজনীতি এভাবে চলে না। বিজেপি বিষয়টি নিয়ে মাঠে নেমেছে এবং কেজরিবাল সরকারর বিরুদ্ধে বেশ কিছু দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনেছে যদিও বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে আমআদমি পার্টির পক্ষ থেকে। অন্যদিকে তারাও খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে সেইসাথে তারা নির্বাচনের আগে যৌতুক বিতরণের অভিযোগ এনেছে। তাই স্বাভাবিক ভাবে এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলি কি জনগণের কল্যাণের জন্য নাকি সেগুলি ভোট সংগ্রহের জন্য 'উৎকোচ ' বিতরণের অনুশীলন? এর আগে মহারাষ্ট্র নির্বাচনের জন্য মহাবিকাশ আঘাদি, অর্থাৎ কংগ্রেস জোটের পক্ষ থেকেও পাঁচটি গ্যারান্টি ঘোষণা করা হয়েছিল। রাহুল গান্ধী নিজেই নারীদের জন্য তিন হাজার টাকা ঘোষণা করেন।এর আগে একই ধরনের রাজনৈতিক ঘোষণা বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সবাই করে এসেছে। এগুলি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি না উৎকোচ .....বিস্তারিত পড়ুন


ইমিউন সেল ব্রেকথ্রু: ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক নতুন সহযোগী
উত্তরাপথঃক্যান্সার গবেষণার ক্ষেত্র থেকে উঠে এসেছে রোমাঞ্চকর খবর! বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আমাদের ইমিউন সিস্টেমে একটি লুকানো জিনিষ আবিষ্কার করেছেন যা ক্যান্সারের চিকিৎসায় কার্যকরী হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই আবিষ্কারটি ইনফ্ল্যামেটরি মনোসাইট নামক এক ধরনের ইমিউন সেলের উপর করেছেন।এটি ক্যান্সার কোষকে লক্ষ্য করে টি কোষকে পুনরায় সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বিজ্ঞানীদের এই অগ্রগতি মেলানোমা, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয় এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের মতো কঠিন ক্যান্সারের মুখোমুখি রোগীদের জন্য আরও ভাল চিকিৎসা বিকল্পের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ইমিউনোথেরাপি কি? ইমিউনোথেরাপি ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরের নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম । এর ব্যবহার ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এই পদ্ধতিটি ক্যান্সারের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য পথ দেখিয়েছে যা একসময় অচিকিৎসাযোগ্য বলে মনে করা হয়েছিল। কেমোথেরাপির মতো প্রথাগত পদ্ধতির পরিবর্তে, ইমিউনোথেরাপি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে ক্যান্সার কোষকে চিনতে ও ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এর সাফল্য সত্ত্বেও, ইমিউনোথেরাপি পদ্ধতিটির একটি বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে: কিছু ক্যান্সার চতুরতার সাথে নিজেদের ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে বা এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে পারে যা প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দমন করে, এই সব ক্ষেত্রে চিকিৎসার এই পদ্ধতিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো কঠিন করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, মেলানোমা রোগীদের অর্ধেকেরও বেশি বর্তমানে ইমিউনোথেরাপির থেকে খুব কম বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন সুবিধা পান না। কেন কিছু ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর ভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না? .....বিস্তারিত পড়ুন