Dehalogenated Nitrophenol: এবার পানীয় জলেও বিপদজনক ডাইহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলস

উত্তরাপথঃ একটি নতুন গবেষণায় পানীয় জলে এমন বিষাক্ত উপাদানের কথা উঠে এসেছে, যা সাধারণ ফিল্টার ও ফুটিয়ে তোলার পরও নির্মূল হয় না। ডাইহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলস (2,6-DHNP) নামক এই পদার্থটি হার্টকে প্রভাবিত করতে পারে। সম্প্রতি ইকো-এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় জেব্রাফিশের ভ্রূণে 2,6-DHNP-এর মারাত্মক কার্ডিওটক্সিক প্রভাবের কথা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে যে 2,6-DHNP-এর সংস্পর্শে জেব্রাফিশের ভ্রূণের হৃৎপিণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। জেব্রাফিশ নামের একটি মাছের ওপর করা এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। জেব্রাফিশের সাথে মানুষের অনেক মিল রয়েছে, যার ফলে তাদের উপর চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত গবেষণা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে এক লিটার জলে ১৯ মাইক্রোগ্রাম ডাইহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনল (Dehalogenated Nitrophenol) পাওয়া গেছে যা জেব্রাফিশের ভ্রূণের উপর মারাত্মক কার্ডিওটক্সিক প্রভাব ফেলেছে।

প্রকৃতপক্ষে, 2,6-DHNP হল জীবাণুনাশক উপ-পণ্যের (DBPs) একটি গ্রুপ যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক। এই যৌগগুলি সাধারণত কীটনাশক, হার্বিসাইড এবং ছত্রাকনাশকগুলিতে পাওয়া যায় এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব রয়েছে বলে পরিচিত। এটি অন্য অনেক দূষণকারীর চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং বিষাক্ত, যা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ নয়। ডাইহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলস অন্যান্য দূষণকারীর চেয়ে সামুদ্রিক জীবন এবং কোষের জন্য বেশি ক্ষতিকর। এটি বিভিন্ন পথের মাধ্যমে নর্দমা, সুইমিং পুল এবং পানীয় জলের কলের মতো জলের উৎসগুলিতে প্রবেশ করতে পারে যার মধ্যে রয়েছে শিল্প বজ্য, কৃষি প্রবাহ এবং রাসায়নিক বর্জ্যের অনুপযুক্ত নিষ্পত্তি। অর্থাৎ আমাদের পানীয় জলকে ডাইহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলস মুক্ত ও পরিষ্কার করার জন্য আরও উন্নত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

ডিহ্যালোজেনেটেড নাইট্রোফেনল হল এক শ্রেণীর রাসায়নিক পদার্থ যাতে হ্যালোজেন পরমাণু (যেমন ক্লোরিন বা ব্রোমিন) এবং ফেনল রিং এর সাথে যুক্ত নাইট্রো গ্রুপ উভয়ই থাকে। এই যৌগগুলি সাধারণত শিল্প প্রক্রিয়াগুলিতে ব্যবহৃত হয়, যেমন কীটনাশক, রঞ্জক এবং ফার্মাসিউটিক্যালস তৈরিতে। ডিহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলগুলি বিভিন্ন উপায়ে জলের উৎসগুলিতে প্রবেশ করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে শিল্প বর্জ্য, কৃষি প্রবাহ এবং রাসায়নিক বর্জ্যের যথায়ত নিষ্পত্তির অভাব।

ডিহ্যালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলের(Dehalogenated Nitrophenol)এক্সপোজার দূষিত জল খাওয়া, দূষিত বায়ু শ্বাস নেওয়া বা দূষিত জল বা মাটির সাথে ত্বকের যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটতে পারে। একবার শরীরে শোষিত হয়ে গেলে, এই যৌগগুলি বিভিন্ন ভাবে শরীরে বিষাক্ত প্রভাব ফেলতে পারে। ডিহ্যালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলগুলি সেলুলার ফাংশন ব্যাহত করতে, হরমোন সংকেতে হস্তক্ষেপ করতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্ররোচিত করতে দেখা গেছে। এই যৌগগুলির দীর্ঘায়িত এক্সপোজার শ্বাসযন্ত্রের জ্বালা, ত্বকের সংবেদনশীলতা এবং অঙ্গের বিষাক্ততা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি করে।  

এছাড়াও, কিছু ডাইহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলকে সম্ভাব্য ক্যান্সারের কারণ হিসাবে মনে করা হয়েছে, যার অর্থ এটি মানুষের মধ্যে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে কিছু ডিহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনল ডিএনএ’র ক্ষতি করতে পারে। এটি ডিএনএ’র মিউটেশনের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের বিকাশকে আরও দ্রুত করতে পারে। সেইসাথে এই যৌগটি প্রজনন এবং বিকাশগত অস্বাভাবিকতা, স্নায়বিক ব্যাধি এবং ইমিউন সিস্টেমকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

ডাইহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলগুলির সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি দূর করতে, জলের উৎসগুলিতে এই যৌগগুলির উপস্থিতি নিরীক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য। উন্নত জল ফিল্টারের পদ্ধতিগুলি যেমন সক্রিয় কার্বন পরিস্রাবণ, ওজোনেশন এবং ঝিল্লি প্রক্রিয়া মাধ্যমে জল থেকে ডাইহালোজেনেটেড নাইট্রোফেনলগুলি অপসারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যাগুলি অনেকটাই কম করা যেতে পারে।

খবরটি শেয়ার করুণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন


রাতে ভালো ঘুমের পিছনে বিজ্ঞানের রহস্য

উত্তরাপথ: ঘুম আমাদের স্বাস্থ্যকর জীবনধারার একটি অপরিহার্য উপাদান। রাতের ভালো ঘুম হওয়া বর্তমান সময়ের একটা বড় সমস্যা। অনেকে আবার ভালো রাতের ঘুমের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ঘুম নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।এক নতুন গবেষণায়, জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা  বলেছেন ঘুমের দীর্ঘস্থায়ী ও গভীরতা নির্ভর করে মস্তিস্কের কোষগুলির মধ্যে পাঠানো সংকেতের উপর। রাতে ঘুমের সময় শরীরে ঘটে যাওয়া জটিল প্রক্রিয়াগুলি সহ  রাতের বিশ্রামের কি গুরুত্ব আমাদের শরীরের উপর তা নিয়ে .....বিস্তারিত পড়ুন

Scroll to Top