শিশুদের বন্ধুকবাজের হাত থেকে বাঁচাতেই হিরো ডিএসপি

উত্তরাপথ

সৌজন্যে: মালদা জেলা পুলিশ

পুরাতন মালদহ: স্কুলের কচিকাঁচা পড়ুয়াদের বন্দুকের নলের সামনে দেখে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি। তখন নিজের জীবনের থেকেও ছোট শিশুগুলিকে বাঁচানোর তাগিদ তার  কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। সেই কারণে বন্দুকবাজের উপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিতীয়বার ভাবেননি ।  বুধবার মালদহ থানার মুচিয়া হাইস্কুলে ছাত্রছাত্রীদের পণবন্দি করে রাখা বন্দুকবাজকে বাগে আনার পর এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলেছিলেন  রাতারাতি ‘হিরো’ হয়ে যাওয়া মালদহের ডিএসপি  আজহারউদ্দিন খান। এদিন স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র সহ ওই বন্দুকবাজকে দ্রুত কব্জা করতে না পারলে বড় অঘটন ঘটে যেতে পারত বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। তাই সাহসিকতার জন্য ডিএসপিকে সকলে একবাক্যে কুর্নিশ জানাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ মুচিয়ার ওই স্কুলের ক্লাসরুমে বন্দুকবাজ দেবকুমার বল্লভের দাপিয়ে বেড়ানোর খবর পেয়ে ডিএসপি ঘটনাস্থলে হাজির হন। অপারেশনে নামার আগে তিনি পুলিসের ইউনিফর্ম ছেড়ে সাধারণ টি শার্ট পরে নেন। তারপর অভিভাবক সেজে বন্দুকবাজের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। বন্দুকবাজের অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে তাঁর উপর কার্যত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন কলকাতার পার্ক সার্কাসের ছেলে আজহারউদ্দিন। ক্লাসরুমের এক কোণে বন্দুকবাজকে তিনি ঠেসে ধরেন। তখন বাকি পুলিস কর্মীরা গিয়ে হামলাকারীকে নিরস্ত্র করেন। শেষে বুদ্ধি করে বন্দুকবাজকে জনরোষের কবল থেকে বাঁচিয়ে বের করে নিয়ে যান।

খবরটি শেয়ার করুণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন


মানুষে মানুষে ঐক্য কীভাবে সম্ভব

দিলীপ গায়েন: হিন্দু,মুসলমান,ব্রাহ্মণ,তফসিলি।সকলেই মানুষ।কিন্তু এদের মধ্যে যে ব্যবধান তা হলো ধর্ম ও সাংস্কৃতিক। এই ব্যবধান মুছতে পারলে একাকার হওয়া সম্ভব। যারা বলছে আর্থিক সমতা প্রতিষ্ঠা হলে ব্যবধান মুছে যাবে, তাদের কথাটি বোধ হয় সঠিক নয়।তার প্রমাণ গরিব ও শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে আর্থিক ব্যবধান নেই। অথচ জাতিভেদ রয়ে গেছে। তেমনি কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতীত ধনী ও শিক্ষিত সমাজে আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও জাতিভেদ রয়ে গেছে। একমাত্র হাসপাতালে বা চিকিৎসা ব্যবস্থায় জাতিভেদ নেই।কারণ সেখানে তো প্রচলিত ধর্মজাত প্রভেদ বা পরিচয় নেই। আছে মেডিসিন, যা সম্পূর্ণ বিজ্ঞান। কারোর ধর্ম বা জাত দেখে প্রেসক্রিপশন হয় কি? এখানে মানুষের একমাত্র এবং শেষ পরিচয় সে মানুষ। .....বিস্তারিত পড়ুন

সম্পাদকীয়

এ যেন বহুদিন পর বিজেপির চেনা ছন্দের পতন। হিমাচল প্রদেশের পর কর্ণাটক কংগ্রেস নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির বিজয়রথকে থামিয়ে দিল ।২০১৮ পর থেকে লাগাতার হারতে থাকা একটি দল আবার ২০২৪ সাধারণ নির্বাচনে প্রাসঙ্গিক হয়ে গেল । ২২৪ সদস্যের কর্ণাটক বিধানসভায় সরকার গঠন করতে গেলে প্রয়োজন ১১৩টি আসন সেখানে কংগ্রেস একাই পেয়েছে ১৩৬টি আসন, বিজেপি পেয়েছে ৬৫ টি এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার জেডিএস পেয়েছে ১৯টি এবং অন্যান্য ৪ টি আসন পেয়েছে। যা গতবারের তুলনায় বিজেপির ৩৯ টি আসন কমেছে এবং কংগ্রেসের বেড়েছে ৫৭টি আসন এবং জেডিএসের কমেছে ১৮ টি আসন।   কর্ণাটকে কংগ্রেসের এই সাফল্য কি রাজ্যে কংগ্রেসের শক্তিশালী সংগঠনের ফল না কি কর্ণাটকের আগের ক্ষমতাশীল বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ । কর্ণাটকে কংগ্রেসে অনেক বড় নেতা রয়েছে।  প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শিবকুমার দক্ষ সংগঠক। আগের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার ব্যাপক জনভিত্তি রয়েছে।  ভোটের আগে বিজেপির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগদীশ শেট্টার এবং উপমুখ্যমন্ত্রী সাভাড়ি কংগ্রেসে যোগ দিয়ে নির্বাচনে লড়েছেন। অন্যদিকে বিজেপির প্রচারের সবচেয়ে বড় মুখ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিজেপির প্রচারে সব নেতারাই মোদীর নাম করেই ভোট চেয়েছিলেন কিন্তু শেষ রক্ষা হল না ।কর্ণাটকের বিজেপি সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি সেই সাথে কংগ্রেসের লাগাতার প্রচার যা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার সুরকে আরও তীব্র করেছে। তাই শুধুমাত্র মোদী ম্যাজিকের উপর ভর করে নির্বাচন জেতা যে  আর বিজেপির পক্ষে সম্ভব নয় কর্ণাটকের জনগণ চোখে হাত দিয়ে তাই দেখিয়ে দিল। .....বিস্তারিত পড়ুন

Scroll to Top