৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল: হাইকোর্ট ও পর্ষদের টানাপড়েন অব্যাহত   

উত্তরাপথ

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রাথমিকের ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আর তাই নিয়ে শুরু হয়েছে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির খেলা। বিচারপতির বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সময় এই শিক্ষকেরা অপ্রশিক্ষিত ছিলেন আর এই অপ্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা এবং সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে। নিয়োগে পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে এই শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল করা হল।

অন্যদিকে হাইকোর্টের এই রায় মানছে না পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। তাদের দাবি, ওই শিক্ষকদের যোগ্যতা আছে বলেই তারা চাকরি পেয়েছেন। পর্ষদ জানিয়েছে যে, নির্দেশের প্রতিলিপি তারা খতিয়ে দেখছে এবং আইনি পরামর্শ নিচ্ছে। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল ৷ সেই সাথে তার বক্তব্য, যে ৩৬হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা আজ আর কেউ অপ্রিশিক্ষিত নেই। বোর্ড সবাইকে প্রশিক্ষণ করিয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ ২০১৯ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানান পর্ষদ সভাপতি। বোর্ড এনসিটিই-র নিয়ম মেনে নিয়োগ করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশে বলেন যে নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০১৬ নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়মের অধীনে করতে হবে এবং এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যা খরচ হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ চাইলে মানিক ভট্টাচার্যর থেকে তা আদায় করে নিতে পারে। কারণ, তার সভাপতিত্বেই এই নিয়োগ হয়েছিল। তাই সমস্ত দায় তারই। অবশ্য এ বিষয়ে কোনও বাক্য খরচ করতে চাননি পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল।

খবরটি শেয়ার করুণ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন


 সম্পাদকীয়

পশ্চিমবঙ্গের ছোট-বড় যে কোনও নির্বাচন মানেই রাজনৈতিক হিংসা । সদ্য অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়।রাজনৈতিক হিংসা যাতে না হয় নির্বাচনে তার জন্য যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার পরও হিংসা অব্যাহত থাকল, সারা রাজ্যজুরে ঘটল তেরোটি মৃত্যুর ঘটনা ।পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে  ঘট হিংসা রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সহ নাগরিকদের ভোটাধিকার নিয়ে আমাদের সামনে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আমাদের রাজ্যে চলতে থাকা রাজনৈতিক হিংসার পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ একাধিক কারণ থাকলেও বেকারত্ব সহ দুর্বল গ্রামীন অর্থনীতি এর প্রধান কারণ । দুর্বল গ্রামীন অর্থনীতির কারণে বেশীরভাগ গ্রামীন এলাকার মানুষদের অর্থনৈতিক উপার্জনের সুযোগ খুব কম। বিশেষত স্বল্প শিক্ষিত সেই সব মানুষদের যারা না পায় সরকারি চাকুরি না পারে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করতে, গ্রামীন অর্থনীতিতে বিশাল সংখ্যক মানুষ এই শ্রেনীর অন্তর্গত .....বিস্তারিত পড়ুন

Scroll to Top